Thursday, January 8, 2015

ভ্রান্ত মতবাদের প্রচারকারী তাবলীগীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে ॥ তাবলীগ নেতা ওয়াসিফুলের দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ উপার্জন সম্পর্কে তাবলীগের অপর গ্রুপের সংবাদ সম্মেলন


ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারী ও প্রচারকারী বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের নেতা ওয়াসিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ অর্থ উপার্জন, তাবলীগকে রাজনৈতিকীকরণ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তাবলীগ নেতা এম মুশফিকুর রহমান চৌধুরীর সমর্থিত তাবলীগ জামাতের সাথীরা। ৮ জানুয়ারি-২০১৫ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় হল রুমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেয় তাবলীগ নেতা আহমেদ ফজলে আকবর। তাবলীগ নেতা, সাথী ও কর্মীদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলো রাকিবুল হাসান, আবু সাইদ লতিফুল আলম, মামুন-উর রশিদ, নারায়ণগঞ্জের হাসান হাবিব প্রমুখ। 
সংবাদ সম্মেলনে চরম বিতর্কিত তাবলীগ নেতা ওয়াসিফুল ইসলামের অনিয়মের প্রমাণ্য দলিলাদি সাংবাদিকদের দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনের পর তাবলীগ নেতা এম মুশফিকুর রহমান চৌধুরীসহ তাবলীগের ১১ জন নেতা-সাথীকে পুলিশ সদর দফতরে ডাকা হয়। সেখানে পুলিশের আইজি, কয়েকজন ডিআইজি উপস্থিত ছিলো। পুলিশ তাদেরকে ইজতেমায় লিফলেট বিতরণ করতে নিষেধ করে। ইজতেমার পরে লিখিত অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করে পুলিশ কর্মকর্তারা। তাবলীগের নেতা-সাথীরা এসব কথা জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলেন লিখিত বক্তব্যে তাবলীগ নেতা আহমেদ ফজলে আকবর বলেছে, “ওয়াসিফুল ইসলাম কাকরাইল মসজিদ নির্মাণের নামে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা থেকে ২০০ কোটি টাকা টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছে। বিদেশ থেকে এসব টাকা সংগ্রহে সহায়তা করেছে ওয়াসিফুল ইসলামের ছেলে ওসামা ইসলাম। এছাড়া সে একটি জাতীয় পত্রিকায় রাজনীতি বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছে। টুইটারে রাজনীতি বিষয়ে মন্তব্য লিখেছে। এসব কার্যকলাপ তাবলীগের মৌলিক নীতি অনুসরণ করে না।
ফজলে আকবর বলেছে, ওয়াসিফুল ইসলাম তাবলীগের শুরা (কার্যপরিষদ) সদস্য পরিচয় বহাল রেখেই চাঁদাবাজি ও রাজনীতি করে যাচ্ছে। সে রাজনীতিতে অংশ নেয়ায় তা তাবলীগের মূলনীতির পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ তাবলীগ কর্মীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। এতে যারা বাধা দিচ্ছে তাদের জেএমবির সদস্য বলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে উল্টো ক্ষিপ্ত হয় তারা। এরপরে যখন লিফলেট বিতরণ করে সতর্ক করার চেষ্টা হয়, তখন হামলা করা হয়।
ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারী ও প্রচারকারী তাবলীগীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিরসনে পুলিশ:
অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা বিষয় নিয়ে ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারী ও প্রচারকারী তাবলীগ জামাতের নেতাদের দীর্ঘ দিনের মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব নিরসনে পুলিশ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বাইরে সুফী-দরবেশের বেশ ধারণকারী কিন্তু আক্বীদা-আমলে ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারী তাবলীগীদের ভেতরে ভেতরে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব চলছিল এতদিন। তবে এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাবলীগের বিভক্তি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একই সঙ্গে তাবলীগের নাম ভাঙিয়ে আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠছে অনেক বড় বড় নেতার বিরুদ্ধে। বিতর্কিত শুরা সদস্য ওয়াসিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শুরু হয়েছে ক্ষমতার দ্বন্দ্বও। মূলত ওয়াসিফ ইসলামের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ অধ্যাপক মুশফিক আহমেদের গ্রুপের।
এই বিরোধ মেটাতে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হকের (আইজিপি) আহ্বানে ৮ জানুয়ারি-২০১৫ বৃহস্পতিবার পুলিশ সদরদপ্তরে গিয়েছিলো অধ্যাপক মুশফিক আহমেদ। ৮ জানুয়ারি-২০১৫ দুপুর সাড়ে ১২টা থকে প্রায় ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তাবলীগের একাংশের নেতা অধ্যাপক মুশফিক।
এর আগে ৮ জানুয়ারি-২০১৫ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তাবলীগের একাংশের নেতা এম মুশফিকুর রহমান চৌধুরী সমর্থিত তাবলীগ জামাতের নেতা-কর্মী-সাথীরা। সংবাদ সম্মেলনে তাবলীগের অপর অংশের নেতা ওয়াসিফুল ইসলামের দুর্নীতি ও অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে কথা বলে তারা। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারাও পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়েছিলো। ওয়াসিফের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎ নিয়ে কথা উঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওয়াসিফুল ইসলাম তাবলীগ জামাতের কথা বলে দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখে।
ওয়াসিফুল ইসলাম বাংলাদেশ তাবলীগের একজন প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ মজলিসে শূরার সদস্য। একই সঙ্গে সে ফায়সাল (চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নেতা) বা আমির। তাবলীগ জামাতের আমির ওয়াসিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে লিফলেট বিতরণকালে বিভিন্ন সময়ে তাবলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে ওয়াসিফুলের লোকজন।
ওয়াসিফুলের বিরুদ্ধে এক পাতার একটি লিফলেট বিতরণ শুরু করে। ওই লিফলেটে ওয়াসিফুলের হাত থেকে তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় মসজিদকে রক্ষারআহ্বান জানানো হয়। তাতে মালানা ওয়াসিফুলের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা হয়।
পুলিশ সদরদপ্তর থেকে বেরিয়ে এম মুশফিকুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলে যে, ‘বৈঠকে পুলিশের আইজি, কয়েকজন ডিআইজি উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ তাদেরকে ইজতেমায় লিফলেট বিতরণ করতে নিষেধ করেন। ইজতেমার পরে অনিয়ম নিয়ে লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পুলিশের রমনা জোনের এসি শিবলী নোমান। আমল-আক্বীদায় ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারী তাবলীগীদেরর আর্থিক বিষয় নিয়ে সমস্যা আছে উল্লখে করলেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে জানান শিবলী নোমান।
এদিকে সংবাদ সম্মেলেন লিখিত বক্তব্যে আহমেদ ফজলে আকবর বলেছে, ‘ওয়াসিফুল ইসলাম কাকরাইল মসজিদ নির্মাণের নামে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা থেকে দুশত কোটি টাকা টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছে। বিদেশ থেকে এসব টাকা সংগ্রহে সহায়তা করেছে ওয়াসিফুল ইসলামের ছেলে ওসামা ইসলাম। এছাড়া সে একটি জাতীয় পত্রিকায় (ওয়াসিফুলের বোনজামাই মাহফুজ আনামের সম্পাদিত ডেইলি স্টারে) রাজনীতি বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছে। টুইটারে রাজনীতি বিষয়ে মন্তব্য লিখেছে। যা তাবলীগের মৌলিক নীতি অনুসরণ করে না।
তারা বলে যে, ওয়াসিকুল ইসলাম তাবলীগের শুরা (কার্যপরিষদ) সদস্য পরিচয় বহাল রেখেই চাঁদাবাজি ও রাজনীতি করে যাচ্ছে। সে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের কারণে বিপুলসংখ্যক তাবলীগ কর্মী-সাথীদের সমর্থন পাচ্ছে, যা তাবলীগের মূলনীতির পরিপন্থি এবং সম্পূর্ণ তাবলীগ বিভ্রান্ত হচ্ছে। এতে যারা বাধা দিচ্ছে তাদেরকে জেএমবির সদস্য বলে পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে ক্ষিপ্ত হয় তারা। এরপরে লিফলেট বিতরণ করে সতর্ক করার চেষ্টা হয়। তখন তাদের উপর হামলা করা হয়। মারধরের মিশন সম্পন্ন করে ইঞ্জিয়ার মাহফুজুল হান্নান ও ইঞ্জিয়ার আনিসুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াসিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে কাকরাইল মসজিদে লিফলেট বিতরণ করেছে তাবলীগের অন্য কর্মী-সাথীরা। তখন দুই দফায় ৪৭ জনকে মসজিদের ভেতরে আটকে রেখে মারধর করে রমনা থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ ৫৪ ধারায় আটক করে জেলহাজতে পাঠায়।
আরো উল্লেখ্য যে, তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি, কাকরাইল মসজিদ কমিটির আমির ও তাবলীগের মজলিসে শূরার সদস্য ও ফায়সাল (চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রণয়ন কমিটির আমীর) ওয়াসিফুল ইসলামের সাথে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দাদের সাথে গোপন কানেকশন আছে বলে সম্প্রতি হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দেয়ার মতো করে  গুরুত্বপূর্ণ এ তথ্যটি ফাঁস করে দেয় তাবলীগেরই আরেক শীর্ষস্থানীয় আমির আবু সাইদ। (তথ্যসূত্র: http://goo.gl/72nifO)
এছাড়াও রাজনীতি তাবলীগের নীতি বিরুদ্ধ হলেও তাবলীগের সঙ্গে দীর্ঘ দিন সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছে, ওয়াসিফুল রাজনীতিতেও যুক্ত। সে ডেইলি স্টার পত্রিকায় নিয়মিত রাজনীতি বিষয়ে প্রবন্ধও লেখে। এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে সে সাংবাদিকদের বলে যে, ডেইলি স্টারের সম্পাদক (নাস্তিক) মাহফুজ আনাম তার ছোট বোনজামাই। এদিকে তার স্ত্রীও আগে গান-বাদ্যের গায়িকা ছিলো বলে জানা যায়।
আর তার ছেলে ঊসামার ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মকান্ড আরো বিস্ময়কর। ওসামা বিন ওয়াসিফ তাবলীগ জামাতের ভবিষ্যৎ মুরুব্বি এবং মেয়েদের মজমায় তুখোর বয়ানকারী। তাকে উম্মতের (তাবলীগীদের) রাহবার বলে প্রচার করা হয়। সে বর্তমানে গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব। দুনিয়া ত্যাগের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বয়ানকারী এই ওসামার দুনিয়া ত্যাগ সম্পর্কে কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো- সে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হসপিটাল-এর ডাইরেক্টর, জাপানী রিকন্ডিশন গাড়ির ইম্পোর্টার ওয়ান কার ট্রেডিং (প্রাঃ) লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান, ওয়ান এডুকেয়ার (প্রাঃ) লি.-এর উপদেষ্টা ও ডাইরেক্টর, ইসলামী ব্যাংক অব জাম্বিয়া লি.-এর শরীয়া কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। এদিকে সোস্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুকে গিটার হাতে নিয়ে ছবি, মূর্তির সাথে ছবি এবং বেগানা মেয়েদের সাথেও তার ছবি পাওয়া যায়।
(খবর সূত্র- আল ইহসান, বাংলামেইল, নতুনবার্তা, শীর্ষনিউজ, বাংলানিউজ ইত্যাদি)


No comments:

Post a Comment